এতিম ছেলে V/S বড়লোকের মেয়ে🥀🥀(Heart Touch Story)

♦️📄গল্প:: এতিম ছেলে V/S বড়লোকের মেয়ে🥀🥀

 

➰পর্ব ::1️⃣
▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️▪️

----কোথাও যেতে পারবি না।এখানে বসে থাক।
----আমি এখানে থেকে কি করবো?
---আমার সাথে গল্প করবি।
---ম্যাডাম একটা ছোটলোকের সাথে গল্প করতে পারবেন তো?
---ক্যান পারবো না?
----আগে তো আমাকে দেখতেই পারতেন না।হঠাৎ কি মনে হলো যে আমার সাথে গল্প করতে ইচ্ছে করছে?
---চুপচাপ বসে থাকবি নাকি থাপ্পড় খাবি?

আমি আর কথা না বলে চুপচাপ বসে রইলাম।এভাবে আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়?ফোন বের করে গল্প দেখতে শুরু করলাম।

লেখতে লেখতে  দুপুর হয়ে গেল।ফোনের চার্জ প্রায় শেষ।চার্জে লাগিয়ে গোসল করলাম।এরপর রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খেয়ে আসলাম।আর ম্যাডাম+ বউয়ের জন্য খাবার প্যাক করে নিয়ে আসলাম।

রুমে এসে দেখি ম্যাডাম গোসল করে এসেছে।ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছে।আমাকে রুমে ঢোকা দেখে আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো।ম্যাডামকে দেখে এখন অনেকটা সুস্থ মনে হচ্ছে।

---তোর হাতে কি?

---আপনার জন্য খাবার আনলাম।
---কি এনেছিস?
---কাচ্চি বিরিয়ানি।
---আচ্ছা রাখ।একটু পর খাচ্ছি।

আমি বিছানার উপর খাবারের প্যাকেটটা রেখে সুয়ে পড়লাম।

ম্যাডাম বসে খাচ্ছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে। খেতে খেতে বলল,"তুই খেয়েছিস?"
---হুম খাইছি।আপনি খান।
---আমি এতো খেতে পারবো না।
---তাহলে ফেলে দেন।
---খাবার নষ্ট করতে হয় না।বাকিটুকু খেয়ে নে।
---আমার পেট ভরা।আর খেতে পারবো না।
---এদিকে আয় আমি খাইয়ে দিচ্ছি।
---কিহ!(ম্যাডাম পাগল হয়ে গেল নাকি যে আমাকে খাইয়ে দিবে?)

---ঠিকই শুনছিস। এদিকে আয়।নাহলে তোর কপালে দুঃখ আছে।

এমনিতেই পেট ভরে খেয়ে এসেছি। এখন আবার খেতে বলছে।না খেলে আবার কি করবে আল্লাহ জানে।এমনিতেই ঝামেলা করে কোনো লাব নাই।এরচেয়ে একটু বেশি খেলে সমস্যা হবে না।তার উপর বর্তমান ক্রাশ খাইয়ে দিবে বলে কথা!তাই বললাম,আচ্ছা খাচ্ছি।"

---ম্যাডাম আমাকে খাইয়ে দিতে লাগলো। আমি দুবার মুখে নেওয়ার পর তৃতীয় বার ইচ্ছে করে ম্যাডামের আঙ্গুলে কামড় দিলাম। ম্যাডাম আউ করে চেচিয়ে উঠলো।আমার দিকে তাকিয়ে বলল,"ওই কামড় দিলি ক্যান?"
---এমনি।

---তোর কামড় দেওয়ার সাধ বের করছি।বলে খাবার রেখে আমাকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিয়ে মারতে লাগলো।
আমি ম্যাডামের হাত ধরে টান দিলাম।আর অমনি আমার উপর পড়ে গেল।অমনি ম্যাডামের ঠোঁট আর আমার ঠোঁট এক হয়ে গেল।আমি ম্যাডামকে জড়িয়ে ধরে ম্যাডামের ঠোঁটে একটা লম্বা চুমু এঁকে দিলাম।ম্যাডাম আমাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলো।

আমি ম্যাডামের দিকে তাকালাম।দেখি ম্যাডাম  লজ্জায় শেষ হয়ে গেছে।একটু পর নিজেকে ঠিক করে নিয়ে চোখ রাঙ্গিয়ে বলল,"লুচ্চা ছেলে।তোর লুচ্চামি করার মজা বের করবো।"

---দেখেন ম্যাডাম আমার কোনো দোষ নাই।আপনি তো আমার উপর এসে পড়লেন। এমন সুন্দরী ম্যাডাম বুকের উপর থাকলে কোনো ছেলে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবে না।

---এবারের মতো তোরে মাফ করলাম।নেক্সট টাইম কিন্তু আর মাফ পাবি না বলে দিলাম।

---আচ্ছা।
---মনে রাখিস কথাটা।

---ম্যাডাম একটা কথা ছিল?

---কি কথা?

--- আগে জানতাম না লিপস্টিকের অনুভব এতো সুন্দর।আরেকবার কি অনুভব করতে পারবো?

---দাঁড়া তোর লুচ্চামি বের করছি।

এখানে তাকলে বিপদ হবে।এরচেয়ে আপাততঃ রুম থেকে কেটে পড়া ভালো।তাই ফোন টা হাতে নিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বের হয়ে আসলাম।

যাক বাবা বাঁচলাম। একন এদিক সেদিক একটু ঘুরে আসি।ততক্ষনে ম্যাডামের রাগ কমে যাবে।

এক ঘন্টা ঘুরলাম।এরপর অনেকগুলো চকলেট সাথে কিছু ফুল কিনলাম।এগুলো দেখলে নিশ্চয়ই ম্যাডামের রাগ কমবে।
রুমে ঢুকে ম্যাডামকে ওগুলো দিলাম।

ম্যাডাম চোখ বড় করে বলল,"এসব ক্যান এনেছিস?"
---আপনার জন্য।
---আমাকে ঘুষ দিয়ে পার পাবি না।বিদেশে আছিস জন্য বেঁচে গেলি।নাহলে তোর কি যে হাল করতাম"

---তাহলে এটাই সুযোগ কিছু করার। (আস্তে আস্তে বললাম)

---বিরবির করে কি বলছিস?
---কিছু না।

---তোর সবকিছু গোছ কর।বিকেলে আমরা জুরিখ শহরে যাবো।

আমি সবকিছু রেডি করে নিলাম।বিকেলে জেনেভা থেকে জুরিখ যাবো।ম্যাডাম বলল,"ট্রেনে যাবি নাকি বাসে যাবি?"

---ট্রেনে গেলে ভালোই হয়।

বিকেলে রেলস্টেশনে গিয়ে দুটো টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলাম।

অনেক স্পিডে ট্রেন চলছে।আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার মতো।কখনও পাহারের টানেলের ভেতর দিয়ে আবার কখনও সবুজ মাঠের পাশ দিয়ে ট্রেন চলছে।দের ঘন্টার মধ্যে জুরিখ শহরে এসে পড়লাম।

ট্রেন থেকে নেমে একটা টুরিস্ট গাইড বই নিলাম।জাতে জানতে পারি এখানে কোথায় কি আছে।আগে একটা হোটেল এ রুম বুক করতে হবে।

টুরিস্ট গাইড বই থেকে একটা হোটেল সিলেক্ট করলাম।হোটেলের নাম "জুরিখ মারিওত হোটেল"।এই হোটেল সিলেক্ট করার একটা কারণ আছে।কারণ এই হোটেল টা লেক জুরিখের একদম গাঁ ঘেঁসে। আর লেক জুরিখ টা জুরিখ শহরের ভেতর সবচেয়ে বড় লেক।

ট্যাক্সি ভাড়া করে হোটেল এ এসে রুম বুক করলাম।

রুমে এসে শুয়ে পড়লাম।শুয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়ছি টের পাইনি।ম্যাডামের ডাকে ঘুম ভাংলো।

---ডাকছেন কেন?

---কয়টা বাজে খেয়াল আছে?

---রাত নয়টা বাজে।ওঠ তারাতাড়ি। খেতে যেতে হবে।

ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এলাম।ম্যাডাম দেখি এতোক্ষণে একটা নীল শাড়ি পড়েছে।আমি তো ম্যাডামকে দেখে চোখ ফেরাতে পারছি না।

---হা করে তাকিয়ে আছিস ক্যান?

---আসলে আপনি ম্যাডাম নাকি " জান্নাত থেকে নেমে আছা কোনো হূর?

আমার কথা শুনে ম্যাডাম হাসতে লাগলো।হাসিটার ফটো তুলে ক্যাপচার করে রাখলাম।এমন ভাবে থাকলে তো ম্যাডামের প্রতি দূর্বল হয়ে যাবো।নাহ এমন করলে চলবে না।কারণ ম্যাডাম আমাকে ভালোবাসে না।একবছর পর আমাকে ডিভোর্স দিবে।খামাখা মায়া বাড়িয়ে লাভ নাই।নিজেকে কন্ট্রোল করে বললাম," চলুন খেয়ে আসি।"

বাহিরে এসে কিছুদূর যাওয়ার পর একটা রেস্টুরেন্ট চোখে পরলো।রেস্টুরেন্টের নাম "ডোন্ট ওরি ইট কারি" কি আজব নাম রে বাবা!
রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে বের হয়ে আসলাম।

---এখন কি করবেন?
---কত সুন্দর চাঁদ উঠেছে!লেকের পাড়টা অনেক সুন্দর লাগবে।চল ওদিকে যাই।

আমি কথা না বলে ম্যাডামের পাশাপাশি হাঁটতে লাগলাম।
কিছুদূর যাওয়ার পর দুটা ছেলে এসে আমাদের পথ রোধ করে দাঁড়ালো।
---কে তোমরা? কি চাই?
---তোদের কাছে যা আছে সব বের কর।নাহলে এই যে ছুড়ি দেখছিস এটা দিয়ে গলা কেটে দিবো।দুজনের ভেতর লম্বা ছেলেটা বলল।

আমি ম্যাডামের দিকে তাকালাম।দেখি ভয়ে চুপসে গেছে।
---ওই কথা কানে যায় না।তারাতাড়ি সব দে।আরেকটা ছেলে বলল।

আমি দুজনের দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালাম।এদের সাথে লড়াই করে পারা কঠিন ব্যাপার হবে না।আমি পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করলাম।দেখি কয়েক হাজার সুইস ফ্রাংক আছে।টাকা গুলো বের করে ওদের দিকে আগালাম।একটা ছেলের কাছে শুধু ছুড়ি আছে।আরেকজন খালি হাতে।আমি টাকা গুলো ওদের দিকে বাড়িয়ে দিলাম।টাকা পেয়ে ছুরি ধরে রাখা ছেলেটা অন্যমনস্ক হয়ে গেছে আমি এই সুযোগ মিস করলাম না।এক ঝটকায় ছুড়িটা কেড়ে নিয়ে ওর মুখের মধ্যে একটা কিক দিলাম, ছেলেটাকে উঠিয়ে দিলাম এক আচ্ছাড় ।আরেকজন পালিয়ে যেতে লাগছিল।ল্যাঙ মেরে ওকেও উঠিয়ে আচ্ছাড় দিলাম, এখানেই ওদের খেলা শেষ,,
আমি টাকাগুলো পকেটে নিয়ে ম্যাডামের পাশে এলাম।

--- আমি জানতাম তর মত কুন্ডায় পারবে এদের সাথে..
---  তো এটা আবার কেমন প্রশংসা?

---তর সাথে এরকম প্রশংসা মানায়।

---ঠিক আছে প্রশংসা বাদ দিয়ে হোটেলে চলুন। আজ আর ঘুরতে হবে না।

পুলিশের গাড়ি শব্দ করে এদিকে আসছে।ম্যাডাম বলল,"পুলিশ আসছে।দেখলে আবার ঝামেলা হতে পার।এরচেয়ে চল এখান থেকে কেটে পড়ি।

ম্যাডাম আবার বলল,"দৌড় দে।"

আমি দৌড়াতে লাগলাম।ম্যাডাম হিল পড়েছে।জোড়ে দৌড়াতে পারছে না।হঠাৎ দেখি আমার পাশে ম্যাডাম নাই।পেছনে ঘুরে দেখি ম্যাডাম রাস্তায় বসে আছে।

---এভাবে রাস্তায় বসে আছেন কেন?

---পড়ে গেছি।তোল আমাকে।
বলে ম্যাডাম হাত বাড়িয়ে দিলো।আমি হাত ধরে টান দিলাম।দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।আমার সারা শরীরে কারেন্ট বয়ে গেল।কিন্তু নিজেকে ঠিক করে বললাম,"জড়িয়ে ধরছেন কেন?"

---মনে হয় পা মচকে গেছে।দাঁড়াতে পারছি না।
---তাহলে তো আপনাকে হসপিটালে নিতে হবে।একটু কষ্ট করে দাঁড়ান। আমি একটা ট্যাক্সি ভাড়া করছি।

---ট্যাক্সি ভাড়া করা লাগবে না।আমাকে হোটেলে নিয়ে চল।

---হাঁটতে পারছেন না।ট্যাক্সি ছাড়া যাবেন কিভাবে?
---ক্যান?তুই নিয়ে যাবি?
---আমি কি করে নিবো?
---সবসময় workout করিস আর একটা মেয়েকে নিয়ে যেতে পারবি না?
---কিভাবে নিবো?
---কোলে করে নিবি?
---পারবো না।
---না নিলে আমি এখান থেকে যাবো না। বলে রাস্তায় বসে পড়লো।

কি মুসিবতে পড়লাম!অনেক বুঝিয়ে কাজ হলো না।শেষমেশ কোলে নিয়ে হাঁটতে লাগলাম।ম্যডাম আমার গলা জড়িয়ে ধরে আছে।আর আমার দিকে চেয়ে আছে।
---এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?
---আমার ইচ্ছে হইছে তাই তাকিয়ে আছি।

আমি আর তর্ক করতে চাইলাম না।এজন্য চুপ হয়ে গেলাম।

ম্যাডামকে দেখে যতটা ভারি মনে হইছে অতটা ভারি না।হোটেলে পৌঁছাতে বেশি কষ্ট হলো না।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

About Author

I am Student. I love to write Article on ViralfactBD